যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে, কথাটা সঠিক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কালান্তর ডেস্ক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের বিষয়ে তদন্ত শুরুর খবরটি সঠিক নয় বলে জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে, কথাটা সঠিক নয়। তাদের সঙ্গে লেবার রাইটসের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের সঙ্গে বহুদিন ধরে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং সেই আলাপ-আলোচনার অংশ হিসেবে কয়েকটি সংস্থা আমাদের সঙ্গে বসেছে। লেবার রাইটস নিয়ে এটা রেগুলার প্রসেস। এটা আগেও হয়েছে। অর্থাৎ কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রম পরিবেশ উন্নয়ন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা আছে, চলছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি ও তাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিঠির জবাব দেওয়ার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চিঠি লিখে দুই দেশের সম্পর্কে দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও ফিরতি চিঠিতে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা, আরও দৃঢ় করার কথা, বহুমাত্রিক করার কথা বলেছেন। আমাদের সম্পর্ক ভবিষ্যতের দিনগুলোতে আরও সুন্দর হবে, আরও দৃঢ় হবে, এগিয়ে যাবে।’

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে চীন, ভারত ও রাশিয়ার যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে আছি। মিয়ানমারে যা ঘটছে, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশিদের সেবা নিয়ে অভিযোগ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ লোক কাজ করে। কনস্যুলার সার্ভিস দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার সেটি দেওয়া সম্ভব নয় এবং সেই কারণে অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। সিদ্ধান্ত সবসময় কনস্যুলার বা অ্যাম্বাসির নিতে পারে না, তাদের বাংলাদেশে পাঠাতে হয়। স্বরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্ত হতে হয়, পুলিশের দ্বারস্ত হতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এসব জায়গা থেকে রেসপন্স না পেলে অনেক সময় ফাইল ডিসক্লোজ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, এটি সঠিক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অল্প সংখ্যক মানুষের পক্ষে এত কাজ করা সম্ভব নয়। তবে কারও কাজে গাফিলতি পেলে বা ইচ্ছাকৃত কেউ কাউকে হয়রানি করে, সে ব্যাপারে আমরা সবসময় সতর্ক আছি। এক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x