যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়ায়: প্রধানমন্ত্রী

কালান্তর ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রাকৃতির দুর্যোগ থেকে শুরু করে যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়ায়। শুধু তাই না, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যও তার অবদান রেখে যাচ্ছে। এভাবেই আমরা সকলে এক হয়ে আমাদের দেশটাকে গড়ে তুলবো। সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

শনিবার পাপা বীর এবং দি বাংলাদেশ ইনফ্যান্টি রেজিমেন্টের তৃতীয় কোর পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যপক কর্মসূচি নিচ্ছি। দারিদ্র বিমোচন করে দেশকে আরও উন্নত করা, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়। এখন আর কেউ আমাদের অবহেলা করতে পারে না। বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ছেলে-মেয়েদের আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি, উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশেষ বৃত্তি দিচ্ছি। ঠিক সেইভাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পদ-পদবী আরও উন্নত করে একেবারে সময় উপযোগী করে আমরা আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সদস্যরা নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালনে সক্ষম হবে। কর্মজীবনে সকল ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময়ই জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ তদারকি, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্প, হাতিরঝিল সমন্বিত প্রকল্প, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ, মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং থানচী-আলীকদম সড়ক নির্মাণ ইত্যাদি জাতীয় কার্যক্রমে সেনাদের অবদান অনস্বীকার্য।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান ও মর্যাদা। যা বহিঃর্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে। সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক। তাই পেশাদারিত্বের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বদ্ধপরিকর। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুগোপযোগী উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামাদি সরবরাহ, প্রশিক্ষণ প্রদান ও উন্নত প্রশিক্ষণ সামগ্রী সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণসহ সময়োচিত সকল পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের সরকার সদা সচেষ্ট। সেনাবাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া রিক্রুট প্রশিক্ষণকে আরও আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সরকার প্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার সব সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে যাচ্ছে। ক্যাডেটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে ক্যাডেটরা বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার সুযোগ লাভ করেছে। রিক্রুটদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ফরমেশনে প্রশিক্ষণ সুবিধাদি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে সেনা রেজিমেন্টের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের তৃতীয় কোর পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে আজ শনিবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেজিমেন্টাল হেড কোয়ার্টারে তাকে স্বাগত জানান, সেনাপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের পর বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত কন্টিনজেন্টের পক্ষ থেকে সালাম জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। পরে সুসজ্জিত প্যারেডকারে করে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের প্যারেড পরিদর্শন করেন সরকারপ্রধান। এ সময় সেনা কন্টিনজেন্ট কমান্ডারদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর, একে একে বিভিন্ন সেনা কন্টিনজেন্ট সুশৃঙ্খল মার্চপাস্টের মাধ্যমে প্যারেড করে প্রধানমন্ত্রীকে সলাম জানান।

প্যারাকমান্ডো ইউনিট সমৃদ্ধ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সদস্যরা মাস্কেটট্রি ড্রিল প্রদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে। সেনাপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে বসে এই ড্রিল দেখেন সরকারপ্রধান। আর এর মাধ্যমেই শেষ হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, অন্যান্য অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন ও ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে এই রেজিমেন্টের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি ও রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্যের মাঝে আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x