সাড়ে ৩ বছর বয়সেই তবলা বাজাতেন তিমির নন্দী

বিনোদন প্রতিবেদক:
তিমির নন্দী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন কণ্ঠযোদ্ধা। গণসঙ্গীত শিল্পী হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে তাঁর। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গান গেয়ে প্রেরণা জুগিয়েছেন মুক্তিকামী লাখো যোদ্ধাকে।

শ্রোতানন্দিত এই শিল্পী রোববার (১৩ অগাস্ট) গাইবেন এনিগমা মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের নিয়মিত আয়োজন ‘আজ গানের দিন’ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি রাত ৯টায় সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এনিগমা টিভিতে।

মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে ওস্তাদ ছাড়াই তবলা বাজানো শুরু করেন তিমির নন্দী। আর পাঁচ বছর বয়সে নিজেই হারমোনিয়ামে সুর তোলেন। তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পড়ত তাঁর।

তিমির নন্দী ১৯৭২ সালে ওস্তাদ মুন্শী রইস উদ্দিনের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। পাশাপাশি নজরুল ও গণসঙ্গীতের প্রখ্যাত শিল্পী, সুরকার শেখ লুৎফর রহমান ও সুখেন চক্রবর্ত্তীর কাছে চলতে থাকে গানের চর্চা। তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে গুরু হিসেবে পেয়েছেন ওস্তাদ দুলাল কৃষ্ণ দেবনাথ, ওস্তাদ হরিপদ দাশ, ওস্তাদ আমিনুল ইসলামসহ অনেককে। পরে সুধীন দাশ, অজিত রায়, সুজেয় শ্যামসহ আরও অনেকের কাছেই শেখার সুযোগ পান।

তিমির নন্দী ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের বৃত্তি পেয়ে সংগীত নিয়ে উচ্চশিক্ষার্থে রাশিয়া চলে যান। তিনি ইউরোপ থেকে সংগীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা প্রথম বাংলাদেশি শিল্পী। বাংলা ছাড়াও রাশিয়ান, স্প্যানিশ ও ইংলিশসহ মোট ৪টি ভাষায় গান গাওয়ায় দক্ষ এই শিল্পী।

গানে গানেই কাটে তিমির নন্দীর জীবন। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। ৫৪ বছরের সংগীতজীবনে বেশ কিছু একক, দ্বৈত ও যৌথ গানের ক্যাসেট ও সিডি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। সঙ্গীতচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা করছেন দু’টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x