সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ অপচেষ্টা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে দাকোপে রবীনগংদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মজনু ফকির, দাকোপ:
দাকোপে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ অপচেষ্টা এবং অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১১ টায় দাকোপ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের বৈশাখী বিশ্বাস বলেন, চুনকুড়ি মৌজায় আমাদের বাপদাদার পৈত্রিক বসতভিটাসহ ১১.৬৪ একর সম্পত্তি যা আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ন ভোগ দখলে আছি। গত ১৪ ডিসেম্বর সকালে আমরা উক্ত জমির ধান কাটতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী প্রধান রবীন্দ্রনাথ মোড়লের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে বাঁধা দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ভাই দেবাশীষ বিশ্বাসসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং কর্মরত ধান কাটা শ্রমিকদের বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। তাদের হামলায় সংকটাপন্ন অবস্থায় দেবাশীষ বিশ্বাসকে আমরা প্রথমে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ঠিক সেই মূহুর্তে হামলাকারী রবীনগংরা ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি প্রতিকী মানববন্ধন করে আমার ভাই বিধান বিশ্বাসসহ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য প্রচার করে। যেখানে আমাদেরকে বিএনপি জামায়াত শিবির আখ্যাদিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন আমার ভাই বিধান বিশ্বাসহ আমাদের পরিবার সরাসরি জাতীর জনকের আদর্শের আওয়ামী পরিবার। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাজুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রেজুলেশন ও সুপারিশে দাকোপ উপজেলা ও খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চুড়ান্ত মনোনয়নের জন্য প্রেরিত ৩ জনের প্যানেল প্রার্থীর অন্যতম একজন ছিল। তিনি চুড়ান্ত মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও দলের নীতি আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে নৌকাকে বিজয়ী করতে নৌকা প্রতিকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে। যার ফল স্বরুপ আজ সেখানে নৌকার ব্যাপক বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাহলে মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে সেই একই ব্যক্তি এবং তার পরিবার কিভাবে বিএনপি জামায়াত হয়ে গেল এমন পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি! তাছাড়া ঘটনার দিন ও সময় আমার ভাই বিধান বিশ্বাস ঘটনাস্থলে না থেকে কিভাবে তাদের করা মিথ্যা মামলায় ২ নং আসামী হলেন সে বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পৈত্রিক ওই সম্পত্তির উপর রবীনগংদের লোলুপ দৃষ্টি দীর্ঘ দিনের। তারই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা এবং হামলা পরবর্তী মিথ্যাচার। তিনি অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরে নিপীড়িত পরিবারকে ন্যায় বিচারে সহায়তা করতে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন। এ সময় তার সাথে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জীবনানন্দ মন্ডল, বাজুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি প্রতাপ মিস্ত্রি, ্ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগনেতা সিরজিত জোয়াদ্দার, সুকুমার বিশ্বাস, মিঠুন বিশ্বাস, জয় বিশ্বাস, সুলেখা মন্ডল, জয়িতা বিশ্বাস, সুজন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। বিধান বিশ্বাসের দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাজুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি অপরাজিত মন্ডল অপু সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার নাম নৌকার মনোনয়ন তালিকায় ইউনিয়ন উপজেলার সুপারিশে প্যানেল তালিকায় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x