মোংলায় প্রবীন আ’লীগ নেতার চিংড়ি ঘের দখল নিয়েছে নব্য নেতা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
মোংলায় প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতার শত বিগার একটি চিংড়ি ঘের জবর দখল করে নিয়ে অপর এক নব্য আওয়ামীগ নেতা। টানা ৬ মাস ধরে ওই ঘেরটি দখলদারিত্বে রেখে চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ২৫ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। অপর দিকে ঘেরটি পূর্নঃ উদ্ধারে স্থানীয় দলীয় নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ ও বিভিন্ন দপ্তর পর্যন্ত গড়িছে। আর উপর্জনের একমাত্র অবলস্বন ওই চিংড়ি ঘেরটির দখল হারিয়ে প্রবীন আ’লীগ নেতার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার চিলা ইউনিয়নের দক্ষিন হলদিবুনিয়া গ্রামের লোভীয় এ চিংড়ি ঘেরটির দখলদারিত্ব নিয়ে এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রপের নেতা-কর্মীরা। আর ক্রমেই যেন বাড়ছে চিংড়ি ঘের নিয়ে উত্তোজনা।
সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিলা ইউনিয়নের দক্ষিন হলদিবুনিয়া মৌজায় শত বিগার জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি চাষ করে আসছিলেন প্রবীন আ’লীগ নেতা এমদাদুল হক শেখ। ধান ও মৎস্য চাষে অক্ষম জমির মালিকরা যৌথ ভাবে (হাড়িতে) ভাড়ায় ৫ বছরের জন্য শর্ত স্বাপেক্ষ তাকে চিংড়ি চাষের জন্য রেজিস্ট্রি করে দেন। ২০১৭ সালে ৪২ জন জমির মালিক অগ্রিম ভাড়ার টাকা বুঝে নিয়ে এমদাদুলের অনুকুলে ৫০ একর (১শ’বিগা) চুক্তি ভিত্তিক হস্তান্তর করেন। ২০১৯ সালে ওই জমিতে মৌসুমের শুরুতে চিংড়ি চাষ শুরু করেন তিনি। অগ্রিম ভাড়ার টাকা, ঘের প্রস্তুত ও মাছ ছাড়া সহ বিনেযোগ করেন প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি। চুক্তি শর্তের ৫ বছরের মধ্যে দু’বছর না যেতেই লোভনীয় চিংড়ি ঘেরটির উপর নজর পড়ে পাশ্ববর্তী এলাকার নব্য আ’লীগ নেতা আলাউদ্দিনের। আর ঘেরটির দখলদারিত্ব নিতে নানা চক্রান্তে মেতে উঠেন তিনি। জমির মালিকদের একাংশকে নানা প্রকার ভয়ভ্রীতি ও প্রলোভন দেখিতে কোন প্রকার রেজিস্ট্রি ছাড়াই স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে চলতি মৌসুমের শুরুতে নব্য আ’লীগ নেতা চিংড়ি ঘেরটি জবরদখল করে নেন। প্রবীন দলীয় নেতার কাছ থেকে কেঁড়ে নেয়া এ চিংড়ি ঘেরটি থেকে টানা ৬ মাস ধরে চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ টাকার মাছ লুটে নিচ্ছেন। এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকরা বেকায়দায় পড়েছেন। কেউ কেউ রেজিস্ট্রি চুক্তিতে প্রথমে প্রবীন নেতা এমদাদের কাছ থেকে অগ্রিম (হাড়ির) ভাড়া টাকা নিয়েও পরে বাধ্য হয়ে স্টাম্প ও মৌখিক চুক্তি নব্য নেতা আলাউদ্দিনের কাছ থেকেও অনুরুপ অর্থ নিয়ে লাভবান হয়েছেন। অপর দিকে পূঁজি বিনিয়োগকৃত চিংড়ি ঘেরটির দখল দারিত্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রবীন আ’লীগ নেতা মোঃ এমদাদুল হকের পরিবার। বিগত কয়েক মাস ধরে চিংড়ি ঘেরটি ফেরৎ পেতে ঘুরছেন দলীয় এক নেতা থেকে অপর নেতার কাছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সুরাহ মিলছে না। এ পর্যন্ত স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায় ছাড়িয়ে দু’ দফায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যানও বিতর্কীত এ ঘরটি নিয়ে পৃথক সালিশ মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় চিংড়ি ঘেরটির দখলদারিত্বে রয়েছেন নব্য আ’লীগ নেতা আলাউদ্দিন ফকির। তিনি পার্শবর্তী সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি ২০২০ সালে ওই ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন দলের এ পদের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন শেষে মোঃ এমদাদুল হক শেখ এখন উপজেলা আ’লীগের কমিটিতে সদস্য কাজ করছেন। প্রবীন ও নব্য এ দুই নেতার চিংড়ি ঘের নিয়ে বিরোধ এখন চরমে পৌছেছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভক্ত হয়েছেন দু’পক্ষে। ওই ঘেরের জমির মালিক আসাদুল জানান, ঘেরটিতে তার পৈত্তিক সম্পত্তি রয়েছে ১০ বিগা। তিনি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে এমদাদুলের সঙ্গে চিংড়ি চাষ করে আসছিলেন। আলাউদ্দিন ফকির ঘেরটি দখল নেয়ার পর নিজের জমিতে যেতে পারছেন না। নানা ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে তাকে। দক্ষিন হলদিবুনিয়া গ্রামের বৃদ্ধ সালাম সরদার অপেক্ষপ করে বলেন-এ ঘেরের মধ্যে তারও জমি রয়েছে। দখলদার গ্রুপ জোরপূর্বক স্টাম্পে তার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে প্রবীন নেতার কাছ থেকে চিংড়ি ঘেরটি দখল করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করা হচ্ছে। ওই ঘেরটিতে দখলদার আলাউদ্দিনের নিয়োগকৃত তত্বাবধায়ক হায়বাদ শেখ জানান, গত ৬ মাসে প্রায় ২৩ লাখ টাকা মূল্যের চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরন করা হয়। এ বিষয় এমদালুল হক শেখ অভিযোগ করেন-জমির প্রকৃত মালিকরা চিংড়ি চাষ ও মৎস্য ঘের নীতিমালা অনুযায়ী রেজিস্টারের মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে দেয় এবং তিনি বৈধভাবে মাছ চাষ শুরু করেন ঘেরটিতে। কিন্তু নানা কুটকৌশলে তার চিংড়ি ঘের জবরদখল করে নিয়েছে আলাউদ্দিন গ্রুপ। এ প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন ফকির জানান, জমির অধিকাংশ মালিকরা তাকে চুক্তিভিত্তিক চিংড়ি চাষের জন্য ঘেরটি লিচ দিয়েছেন। তাই চলতি বছর থেকে তিনি চিংড়ি চাষ করছেন। এ প্রসঙ্গে চিলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আকবর গাজী জানান- চিংড়ি ঘেরটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক থাকায় দু’ দফায় মাছ ধরা ও বিক্রির কিছু টাকা স্থানীয় এক নেতার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x