অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি চরমে

কালান্তর ডেস্ক:
দেশজুড়ে সীমিত পরিসরে লকডাউন চলছে। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রেখে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে। আর এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ছুটে যাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীজুড়ে আফিসগামী মানুষের ভোগান্তির এ চিত্র দেখা যায়। এদিন রাস্তায় যানবাহনের জন্য অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় করতে দেখা যায়। কিন্তু কোনো ধরনের গণপরিবহন না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে বেশি ভাড়ায় রিকশা, ভ্যান, ভাড়ায় বাইক বা পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্যবাহী যান চলাচল করছে রাজধানী ঢাকায়। সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকে বাধ্য হয়ে এসব যানবাহনেও উঠেছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকার কাছের জেলাগুলো থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেকে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপে উঠছেন।
কলাবাগান এলাকায় কাজ করা একজন বলেন, সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে। আবার অফিস খোলা আছে। এটা কেমন লকডাউন। করোনায় আমাদের জীবনের ঝুঁকিও আছে, তারপরেও বাধ্য হয়েই অফিসে আসতে হয়। চাকরি গেলে করোনার মধ্যে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ে যাব। তাই আগারগাঁও থেকে ২০ টাকার বাস ভাড়া ১২০ টাকা দিয়ে রিকশায় আসতে হচ্ছে। কে দেখবে আমাদের এই দুর্দশা?
একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করা একব্যক্তি বলেন, তিনি ধানমন্ডি ২৭ থেকে যাবেন তেজগাঁও এলাকা। লকডাউন হোক, আর হরতাল সব থেকে বেশি কষ্ট আমাদের মত মধ্যবিত্তদের। যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে, তাদের জন্য লকডাউন নেই। দেখেন রাস্তায় কি পরিমান প্রাইভেট কার চলছে। তাদের কোথাও যেতেও বাধা নাই। কিন্তু আমার মত যারা বাসে যাতায়াত করি, তারা কিভাবে অফিসে যাব, এটা কেও ভাবেনা। ৪০ টাকার রিক্সাভাড়া এখন দিতে হচ্ছে ৬০ টাকা।
বেশিরভাগ অফিসগামী মানুষের দুর্দশার চিত্র একইরকম। হেঁটে কিংবা বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। তাদের দাবি অফিস খোলা রাখলে তাদের যেন যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x