ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নে কর্মসৃজন কাজে ব্যাপক অনিয়ম, শ্রমিক দিয়ে ব্যক্তি মালিকের পুকুর খনন

খান মহিদুল ইসলাম, ডুমুরিয়া:
ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নে ৪০ দিনের শ্রমিক দিয়ে পুকুর থেকে তোলা হয়েছে বালু। ওই বালু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অন্য প্রকল্পের রাস্তা। খনন করা হয়েছে ব্যক্তির মালিনাধীন পুকুর। তৈরি করা হয়েছে ভুয়া মাস্টাররোল। নেই প্রকল্প কর্মকর্তার দপ্তরের তদারকি। একবার যেয়েই দায়িত্ব শেষ ট্যাগ অফিসারের। সরেজমিন যেয়ে এবং একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শোভনা ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইজিপিপি) অর্থাৎ ৪০ দিনের কর্মসূচিতে মোট ২০৮ জন শ্রমিক রয়েছে। মোট ৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৬ লাখ টাকা ৬৪ হাজার টাকা। পশ্চিম শোভনা এ ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড। শ্রমিক সংখ্যাও ২৮ জন। তবে উপস্থিতি ৩৫ দিনই ২০ জনের নিচে। ওই শ্রমিক দিয়ে পশ্চিম শোভনার আজিত সরদার ও মুজিবর সরদারের পুকুর থেকে তোলা হয়েছে বালু। রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে স্তূপ আকারে। সেখান থেকে বালু নিয়ে অন্য একটি প্রকল্পে পশারী বাড়ি জগধাত্রী মন্দির অভিমুখি ইটের সোলিং নির্মানে ব্যবহার করা হয়েছে বলে শ্রমিক সরদার আফছার তরফদার জানিয়েছে। এছাড়া শ্রমিক সরদার ফারুক খানের একটি জমি বর্গা চাষ করে। ৪০ দিনের ৮ জন শ্রমিক নিয়ে ওই জমিতে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে।
বর্গা জমিতে কাজ করার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, বালু এখনও আছে খেয়াঘাটের দেয়ার জন্য। তবে বালু তারা উত্তোলন করলেও পরে অন্য শ্রমিক দিয়ে বালু বহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ইউপি সদস্য শফিউল্লাহ বলেন, ২ দিন ৪০ দিনের শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেয়ার জন্য রাখা হয়েছে বললেও ওই বালু অন্য কোন প্রকল্পে কেন ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোন উত্তর দিতে রাজি হননি।
কাকমারী-বলাবুনিয়া ওয়ার্ডে যেয়ে দেখা গেছে ২২ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৫ জন কর্মরত। প্রকল্প চেয়ারম্যান মহিলা মেম্বর শফি রানী রায় বলেন, ২/১ জন শ্রমিক কম থাকে। পল্লীশ্রী ওয়ার্ডে যেয়ে দেখা যায়, ২৩ জন শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ১৫ জন শ্রমিক কর্মরত।
ইউপি সদস্য দেবব্রত সরদার বলেন, সবদিন সমান শ্রমিক আসে না। পূর্ব শোভনায় বৌদ্ধ পূর্ণিমার দিনে কাজ বন্ধ ছিল বলে ইউপি সদস্য সোহাগ খান জানান। এসব অনিয়ম সম্পর্কে একাধিক শ্রমিক সরদার বলেন, পত্রিকায় লিখে কোন লাভ নেই। পিআইও অফিসে মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে এসব কাজ করা হচ্ছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শ্রমিক বলেন, পিআইও অফিস থেকে ইতোমধ্যে গ্রীণ সিগনাল দেয়া হয়েছে ভুয়া মাস্টার রোল জমা দেয়ার। তারা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন ও ত্রাণ শাখার প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ ৪০ দিনের কর্মসূচির সকল কাজ কর্ম দেখাশুনা করেন। অর্থনৈতিক লেনদেন রাসেলের মাধ্যমে হয় বলে সকল শ্রমিক, ইউপি সদস্যরা জানান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ বলেন, ভুয়া বিল পাস করানোর জন্য ইউপি মেম্বররা এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। শ্রমিক কম হলেও বিল দেয়া হয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন থেকে বিল দিলে কি করার আছে।
শোভনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, শোভনা ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পের সব কয়টিতে তিনি নিজে সরেজমিন যেয়ে বিলে স্বাক্ষর করেন। তিনি আরও বলেন, কোন অর্থনৈতিক লেনদেন তিনি নিজেও করেন না অন্য কেউ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্য প্রকল্পে বালু ব্যবহার হয়েছে কি-না সে সম্পর্কে বলেন, খোঁজ নেয়া হচ্ছে সঠিক হলে আইনগত ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, অন্য প্রকল্পে বা প্রকল্প বিহীন জায়গায় ৪০ দিনের শ্রমিক কাজ করেছে তেমনটি তার জানা নেই। পুকুর থেকে বালু তুলে স্তূপ করার কোন অভিযোগ তিনি পাননি দাবি করে বলেন, তদারকি করেই বিল দেয়া হবে। তবে উৎকোচ গ্রহনের কথা অস্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x