পাইকগাছা শাপলা ক্লিনিকে আবারও প্রানগেল ৭ বছরের কিশোর আবু সুফিয়ান এর। ক্লিনিক ব্যবস্থাপক তাপস পালিয়েছে।

এফ এম বদিউর জামান:
পাইকগাছা শাপলা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে ৭ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে খুলনা জেলার দাকব উপজেলার গড়খালী গ্রামের সালাম সরদারের পুত্র আবু সুফিয়ান ( ৭) কে গত ইং ১৮/০৬/২০২১ তাং শুক্রবার এপেন্ডিস জনিত কারণে পাইকগাছা পৌরসভার শাপলা ক্লিনিক নামক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন । ঐদিন বিকাল ৫ টার দিকে আবু সুফিয়ান কে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অপারেশন করে। শনিবার ভোর ৫টার দিকে আবু সুফিয়ানের সরির ও চোখ মুখ বেঁকে যেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তখন আবু সুফিয়ানের মা ও বাবা সালাম সরদার তাতখানিক ক্লিনিক ব্যবস্থাপক তাপস মিস্তিরি ও তার স্ত্রী সিস্টার অনিমা মিস্তিরি কে আবু সুফিয়ানের বিষয়টি খুলে বলেন ।তখন তাপস বলেন অপারেশন করা হয়েছে মাত্র আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তখন আবু সুফিয়ানের পিতা মাতা বলেন আমার ছেলে মারা গেছে এই বলার সাথে সাথে তাপস ও অনিমা মৃত আবু সুফিয়ানের কাছে যেয়ে বলেন। সুফিয়ান বেঁচে আছে এখুনি খুলনায় নিতে হবে। তখন মৃত আবু সুফিয়ানের পিতা মাতা হতাশ হয়ে তাপসকে বলে আমার ছেলে মারা গেছে কেন তাকে খুলনায় পাঠাতে চান এরি মধ্যে সিস্টার অনিমা সুকৌশলে মৃত আবু সুফিয়ানের মুখে অক্সিজেন লাগীয়ে দেন । তখন তাপসের বহু অপকর্মের হোতা অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার আঃ রহিম এর অ্যাম্বুলেন্সে মৃত দেহ অক্সিজেন লাগিয়ে উঠিয়ে দেয় খুলনার উদ্দেশ্যে। তখন স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পাইকগাছা পেট্রোল পাম্পের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রহিমকে দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেয়। স্থানীয়রা বলেন যে রোগীকে নিয়ে যাচ্ছ সে জিবিত না মৃত । তখন রহিম বলেন রোগী জিবিত আছে বলার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা ড্রাইভার রহিমকে মারপিট করে বলেন এর আগেও তুই তাপসের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মৃত ব্যক্তিদের জিবিত সাজিয়ে তোর এ্যম্বুলেন্স যোগে খুলনার উদ্দেশ্যে নিয়েছিস। যা পরবর্তীতে জানাগেছে পথ মধ্যে সবাই মারা গেছে। যেমন গজালিয়া গ্রামের মারুফা,মৌখালি গ্রামের আরিফা, নোয়াকাটি গ্রামের ফাতেমা, কালুয়া গ্রামের নাছিমা সহ নামনাজানা আরো অনেকে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার এবি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী তথখানিক সংবাদ পেয়ে শাপলা ক্লিনিকে আসার আগেই ক্লিনিকের ব্যাবস্হাপনা পরিচালক তাপস পালিয়ে যায়।আবু সুফিয়ান এর পরিবার মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে পুলিশ লিখিত নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। ওসি তদন্ত সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেল বলেন ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলে কিছু করার নেই । ক্লিনিকে থাকা অনিমা রানী এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন ক্লিনিকের নবায়ন না থাকায়, অতিরিক্ত বেডথাকায়,অব্যবস্থাপনা ,ডাক্তার না থাকার কারণে ক্লিনিকটিকে ৫০০০টাকা জরিমানা সহ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x