আশাশুনি প্রতাপনগর হরিশ খালির বাঁধ আটকানোর ছয় ঘণ্টাও টিকলো না

আশাশুনি প্রতিনিধি :
সর্ব ধর্ম বর্ন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের অংশ গ্রহণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারের প্রচেষ্টায় প্রতাপনগর হরিশ খালির বাঁধ আটকানোর ছয় ঘণ্টাও টিকলো না। প্রয়োজনের তুলনায় বাঁধটি চিকন করে চাপান দেওয়া হরয়ছে বলে মন্তব্য স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় সচেতন গণ্যমান্য এলাকাবাসীর এবং ভাঙ্গন বাঁধ আটকানোর পর প্রয়োজন মতো লীবার শ্রমিক না নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের। গতকাল প্রতাপনগর হরিষ খালির দক্ষিণ পশ্চিম অংশের ভাঙ্গন পয়েন্ট ক্লোজার আটকানোর পর ছয় ঘণ্টা না যেতেই ক্লোজার ভেঙ্গে পূর্বের ন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। বিগত ২৬ মে ঘুর্নিঝড় ইয়াস-যশ প্রভাবে প্রতাপনগর হরিশ খালির মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রতাপনগর অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। বিগত বছরের ২০ মে মহা প্রলয়ঙ্কারী জ্বলোচ্ছাস ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে উপকূলীয় প্রতাপনগর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। তৎপর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থ বরাদ্দে ঠিকাদার সৈয়েদ শাহিনুর আলীর মাধ্যমে সাম্প্রতিক নির্মিত এই বাঁধটি গত ২৬ মে বুধবার ঘুর্নিঝড় ইয়াস-যশ প্রভাবে খোঁলপেটুয়ার নদীর পানির উচ্চতা ঝড়োহাওয়া তুফানের আঘাতে আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তৎপর থেকে ঠিকাদার সৈয়দ শাহিনুর আলী বাঁধ আটকাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৬ মে ইয়াস যশ প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর হরিশ খালির দক্ষিণ পশ্চিম অংশের একটি ছোট ভাঙ্গন পয়েন্ট আটকে দেয় ঠিকাদার সৈয়দ শাহিনুর আলী। এবং গতকাল প্লাবিত অসহায় ভুক্তভোগী হাজারো এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহণ করে ভাঙ্গন পয়েন্টের বাঁধ আটকাতে। বিশেষ করে কল্যাণপুর গ্রাম থেকে কয়েকশ’ স্বেচ্ছাশ্রমিক অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু আটকানো বাঁধ ভেঙ্গে সবকিছু যেন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। প্রতাপনগর বাসীর জন্য প্লাবিত অবস্থা কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর লবণাক্ত বিষাক্ত জ্বলের জোয়ার ভাটা যেন দুর্ভাগ্য নিয়তির নির্মম পরিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বিষহ জীবন যাপন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। বাঁধ বেঁধে বাড়ি না যেতেই মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও প্লাবিত হলো প্রতাপনগর। বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক এন এন ডি রাশেদ সরোয়ার শেলী। উপজেলা কৃষক লীগের
সদস্য সচিব মতিলাল সরকার। ক্লোজার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য অংশ গ্রহণ করে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ ফকির, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী, সাবেক পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ, ইউনিয়ন আ’লীগ সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কাজল, ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার রিয়াসাত আলী মামুন, ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল গনি, ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য সচিব হারুন উর রশীদ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মাওঃ নুরে আলম সিদ্দিকী, ৫ নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি জিয়াউর রহমান মিন্টু। সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হাসান মিলন, প্রমুখ।

আশাশুনিতে বিক্রয়কৃত সম্পত্তি জবর দখল করার ষড়যন্ত্রে ক্রয়কৃত মালিকগন দিশেহারা
আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনির বেউলায় বিক্রয়কৃত সম্পত্তি পুনরায় জবর দখল করার ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্রয়সূত্রে ভোগ দখলীয় সম্পত্তির মালিকগন। ওই গ্রামের ভূক্তভোগী সেলিম রেজা ওরফে রেজাউল ইসলাম জানান, উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের ঈমান আলী সরদারের মৃতান্তে দু’স্ত্রীর সন্তানরা ওয়ারেশ থাকেন। এ সব ওয়ারেশদের মধ্যে বেউলা মৌজায় আরএস ৮৬৯ ও ৫১৭ নং খতিয়ানে হাল ৩৩৯৪, ৩৩৯৫, ৩৪১৮ সহ বিভিন্ন দাগে ওই গ্রামের কেরামত আলী সরদার ও তার স্ত্রী-পুত্রদের নামে ভিন্ন ভিন্ন দলিলে মোট সাড়ে ৭৮শতক জমি ক্রয় করেছেন। ঈমান আলী সরদরের মৃতান্তে তার ওয়ারেশ স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের নিকট থেকে উল্লেখিত আরএস খতিয়ানের সম্পত্তি হতে ৪৮০৬/৯৩, ১৬৭/৯৫, ২৩৮২/৯৯, ২৭৩৩/০৭, ৫৮৯/১৩ ও ১৫৯০/১৫ নং দলিল মূলে সাড়ে ৭৮ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন ওই গ্রামের কেরামত আলী সরদার ও তার স্ত্রী-পুত্ররা। ক্রয় করার পর থেকে দাতাগন তাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি থেকে বিক্রিত মতে গ্রহিতাগনের মৌখিকভাবে জমির দখল বুঝে দেন। সে থেকে কেরামত আলী সরদার ও তার পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু, এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের পরামর্শে দাতাগন বিক্রিত সম্পত্তির ফাকফোকড় খুজে বেদখল বা জবর দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। স্থানীয় চৌকিদার বাবলুর প্রতক্ষ্য সহযোগীতায় দাতাগন কর্তৃক আদালত, থানা, এসপি অফিসসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন, অভিযোগ, তদবীর অব্যহত রেখেছেন। ফলে বর্তমানে ভোগ দখলে থাকা কেরামত আলী সরদারের পুত্র সেলিম রেজা ওরফে রেজাঊল ইসলামসহ তার পরিবার দারুনভাবে হতাশাগ্রস্থ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী সেলিম রেজাসহ তার পরিবার প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x